আয়কর ও ভ্যাট কর্তনের তালিকা ২০২৫-২০২৬
নতুন অর্থবছর এলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আয়কর ও ভ্যাট নিয়ে আগ্রহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর ও ভ্যাট কর্তনের বিষয়টি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সাধারণ ভোক্তা—সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর কাঠামোর পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে ব্যক্তিগত আয়, পণ্যের মূল্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
বাংলাদেশে কর ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পালন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতি অর্থবছরে বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করা হয়।
আয়কর কী এবং কারা এর আওতায় পড়েন
আয়কর হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়ের আয়ের ওপর সরকারের আরোপিত প্রত্যক্ষ কর। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ফ্রিল্যান্সার, ভাড়াভিত্তিক আয়কারীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ আয়করের আওতাভুক্ত।
তবে সরকার নির্ধারিত করমুক্ত আয়সীমার নিচে আয় হলে কর দিতে হয় না। নারী করদাতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়।
আয়কর কর্তনের কাঠামো ২০২৫-২০২৬
আয়কর কাঠামো সাধারণত ধাপে ধাপে নির্ধারিত হয়। নির্দিষ্ট আয়সীমা পর্যন্ত করমুক্ত রাখা হয় এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে করহারও বাড়তে থাকে। এই পদ্ধতিকে প্রগতিশীল কর কাঠামো বলা হয়।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক বেতনের সঙ্গে উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়। বছরের শেষে সেই হিসাব সমন্বয় করে কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
📊 ভ্যাট কর্তনের তালিকা ২০২৫–২০২৬
▶️ ভ্যাট প্রযোজ্য প্রধান খাত
| খাত | ভ্যাট অবস্থা |
|---|---|
| রেস্টুরেন্ট ও খাবার সেবা | প্রযোজ্য |
| মোবাইল ও ইন্টারনেট | প্রযোজ্য |
| পরিবহন সেবা | প্রযোজ্য |
| নির্মাণ সামগ্রী | প্রযোজ্য |
| বিলাসপণ্য | প্রযোজ্য |
▶️ ভ্যাটমুক্ত / ছাড়প্রাপ্ত খাত
| খাত | ভ্যাট অবস্থা |
|---|---|
| কৃষি কাঁচামাল | ভ্যাটমুক্ত |
| নির্দিষ্ট শিক্ষা সেবা | ভ্যাটমুক্ত |
| নির্দিষ্ট চিকিৎসা সেবা | ভ্যাটমুক্ত |
| কিছু খাদ্যপণ্য | ভ্যাটমুক্ত |
| রপ্তানিমুখী শিল্প (নির্দিষ্ট) | ছাড়প্রাপ্ত |
উৎসে আয়কর কর্তন (TDS)
আয়করের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উৎসে কর কর্তন। বিভিন্ন খাতে সরাসরি আয় গ্রহণের সময়ই কর কেটে নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- বেতন ও ভাতা
- ঠিকাদারি ও সরবরাহ বিল
- বাড়িভাড়া
- ব্যাংক আমানতের সুদ
- পেশাগত সেবা ফি
উৎসে কর কেটে নেওয়া হলেও করদাতাকে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
🧾 উৎসে আয়কর কর্তন (TDS) – গুরুত্বপূর্ণ খাত
| খাত | উৎসে কর কর্তন |
|---|---|
| চাকরিজীবীর বেতন | প্রযোজ্য |
| বাড়িভাড়া | প্রযোজ্য |
| ঠিকাদারি বিল | প্রযোজ্য |
| ব্যাংক সুদ | প্রযোজ্য |
| পেশাগত সেবা ফি | প্রযোজ্য |
ব্যবসায়ীদের জন্য আয়কর ব্যবস্থা
ব্যবসায়ীদের আয়কর নির্ধারিত হয় ব্যবসার ধরন, টার্নওভার ও হিসাব সংরক্ষণের ভিত্তিতে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য টার্নওভারভিত্তিক কর ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট অঙ্কের কর পরিশোধ করলেই নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়।
ভ্যাট কী এবং কেন দিতে হয়
ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর একটি পরোক্ষ কর, যা পণ্য ও সেবার ওপর আরোপ করা হয়। ভোক্তা ভ্যাট প্রদান করলেও সরকারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব থাকে ব্যবসায়ী বা সেবা প্রদানকারীর ওপর।
ভ্যাট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
ভ্যাট কর্তনের তালিকা ২০২৫-২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ খাত
বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় ভ্যাটের হার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণভাবে—
- অধিকাংশ পণ্য ও সেবায় নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার প্রযোজ্য
- কিছু খাতে হ্রাসকৃত ভ্যাট হার কার্যকর
- নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ও সেবা ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়
রেস্টুরেন্ট, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা, নির্মাণ সামগ্রী, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবামূলক খাতে ভ্যাটের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।
ভ্যাটমুক্ত ও ছাড়প্রাপ্ত খাত
সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কিছু খাতকে ভ্যাটমুক্ত বা ছাড়প্রাপ্ত রাখে। এর মধ্যে রয়েছে—
- কৃষি উৎপাদনের কাঁচামাল
- নির্দিষ্ট শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা
- কিছু খাদ্যপণ্য
- রপ্তানিমুখী শিল্পের নির্দিষ্ট সেবা
সাধারণ মানুষের ওপর কর ও ভ্যাটের প্রভাব
ভ্যাট পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। অন্যদিকে আয়কর ব্যক্তিগত আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে কর কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আর্থিক পরিকল্পনা সহজ হয়।
▶️ ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর কাঠামো
| আয়ের স্তর | প্রযোজ্য করহার |
|---|---|
| করমুক্ত আয়সীমা পর্যন্ত | ০% |
| পরবর্তী ধাপ (নিম্ন আয় স্তর) | প্রযোজ্য হার |
| মধ্যম আয় স্তর | প্রযোজ্য হার |
| উচ্চ আয় স্তর | প্রযোজ্য হার |
| সর্বোচ্চ আয় স্তর | সর্বোচ্চ করহার |
আয়কর রিটার্ন দাখিল কেন গুরুত্বপূর্ণ
অনেক ক্ষেত্রে কর না লাগলেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, সরকারি চাকরি বা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কর রিটার্নের কপি প্রয়োজন হতে পারে। রিটার্ন না দিলে জরিমানা ও আইনি জটিলতার আশঙ্কা থাকে।
ভ্যাট কর্তন প্রযোজ্য প্রতিষ্ঠান ও খাতসমূহ
বাংলাদেশে সাধারণত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এনজিও, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানি, মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা পণ্য বা সেবা গ্রহণের সময় উৎসে ভ্যাট কর্তন করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট কর্তন করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো কিছু নির্দিষ্ট খাতে ভ্যাট কর্তন প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট কোনো খাত বা সেবা যদি ভ্যাট কর্তনের তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে, সে ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে স্ট্যান্ডার্ড বা বিধি ভ্যাট রেট প্রযোজ্য হবে।
নতুন ভ্যাট ও আয়কর হার ২০২৫–২০২৬: কী পরিবর্তন এসেছে
২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া সংশোধিত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্যাট কাঠামোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে আগে যেসব পণ্য ও সেবায় ৫ শতাংশ বা ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল, সেসব ক্ষেত্রে এখন ১৫ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের আওতায় এসেছে—
- রেস্তোরাঁ ও খাদ্য পরিবেশন সেবা
- ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম
- স্থানীয় ব্র্যান্ডের পোশাক
- নন-এসি হোটেল
- ফিল্ম স্টুডিও ও সিনেমা হল
- গাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ
- প্রিন্টিং হাউস ও টেইলারিং শপ
- সামাজিক ও ক্রীড়া ক্লাব
- বিভিন্ন ধরনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা
একই সঙ্গে কিছু খাতে হ্রাসকৃত ভ্যাট হার চালু রয়েছে, যেমন—১.৫%, ২%, ২.৪%, ৪.৫%, ৫%, ৭.৫% এবং ১০%। এসব হার দ্বিতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ভ্যাটমুক্ত ও শূন্য-রেটেড পণ্য ও সেবা
নতুন ভ্যাট কাঠামো অনুযায়ী কিছু পণ্য ও সেবাকে ভ্যাটমুক্ত (Exempted) অথবা শূন্য-রেটেড (Zero-rated) হিসেবে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- শিশুদের পোশাক
- নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য
- তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)
- প্যাকেটজাত তরল দুধ
- বিমানের ইজারা ভাড়া
- কম্পিউটার মনিটর (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)
এছাড়া অনলাইন পণ্য বিক্রয় এবং কিছু উৎপাদন স্তরে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে, যা ডিজিটাল বাণিজ্য ও শিল্পখাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ভ্যাট কর্তনের তালিকা (খাতভিত্তিক)
২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় ভ্যাট কর্তনের হার নিম্নরূপ—
- অপ্যায়ন/খাদ্য দ্রব্য ক্রয় (এসি রেস্তোরাঁ): ১৫%
- অপ্যায়ন/খাদ্য দ্রব্য ক্রয় (নন-এসি): ৭.৫%
- মোটরগাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ: ১০%
- আসবাবপত্র বিপণন কেন্দ্র: ৭.৫%
- জ্বালানি (সিএনজি, অকটেন, ডিজেল): ৫%
- যান্ত্রিক লন্ড্রি: ১৫%
- ডকইয়ার্ড: ১০%
- নিলামকারী সংস্থা: ১৫%
- তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা: ৫%
- ছাপাখানা: ১০%
- ইন্ডেন্টিং সংস্থা: ৫%
- ইন্টারনেট সেবা: ৫%
- মেরামত ও সার্ভিসিং: ১০%
- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা তাপানুকূল লঞ্চ সার্ভিস: ৫%
- বোর্ড সভায় খাবার সরবরাহকারী: ১০%
- ভবন, মেঝে ও অঙ্গন পরিষ্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ সেবা: ১০%
- সাধারণ ক্রয় বা যোগানদার: ৭.৫%
- নির্মাণ সংস্থা: ৭.৫%
- বিজ্ঞাপনী সংস্থা: ১৫%
- নিলামকৃত পণ্যের ক্রেতা: ১৫%
- অন্যান্য বা বিবিধ খাত: ১৫%
উৎসে ভ্যাট কর্তনকারী সত্তা কারা
২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে উৎসে ভ্যাট কর্তনের ক্ষেত্রে “উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা” হিসেবে বিবেচিত হবে—
- সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান
- এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা সমাজসেবা অধিদপ্তর অনুমোদিত সংস্থা
- ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান
- মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- লিমিটেড কোম্পানি
- বার্ষিক ১০ কোটি টাকার বেশি টার্নওভারযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান
এসব প্রতিষ্ঠান ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট কর্তন করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বাধ্য। ভ্যাট ও কর সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ নির্দেশনা ও ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
কর সংক্রান্ত তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে
আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জানা যায়—
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিস ও ওয়েবসাইট
- কর অঞ্চল কার্যালয়
- সরকারি গেজেট ও বিজ্ঞপ্তি
- অনলাইন কর পোর্টাল
নতুন অর্থবছরের কর কাঠামো সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা থাকলে করদাতারা যেমন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়াতে পারেন, তেমনি ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরাও তাদের আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মতভাবে সাজাতে পারেন। কর সংক্রান্ত নিয়মাবলি নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং সময়মতো কর রিটার্ন দাখিলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
❓ আয়কর ও ভ্যাট কর্তনের তালিকা ২০২৫–২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
❓ ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার কত?
উত্তর:
২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্য ও সেবার জন্য ১৫ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার প্রযোজ্য। কোনো খাতে আলাদা হার উল্লেখ না থাকলে এই হারই কার্যকর হবে।
❓ কোন কোন প্রতিষ্ঠান উৎসে ভ্যাট কর্তন করবে?
উত্তর:
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, লিমিটেড কোম্পানি, মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বার্ষিক ১০ কোটি টাকার বেশি টার্নওভারযুক্ত প্রতিষ্ঠান উৎসে ভ্যাট কর্তন করবে।
❓ জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির ক্ষেত্রে কি ভ্যাট কর্তন করতে হয়?
উত্তর:
না। সাধারণভাবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ খাতে উৎসে ভ্যাট কর্তন প্রযোজ্য নয়। তবে আইন পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
❓ কোন কোন খাতে ২০২৫ সালে নতুন করে ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে?
উত্তর:
২০২৫ সালের সংশোধিত ভ্যাট আইনের আওতায় রেস্তোরাঁ, নন-এসি হোটেল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রিন্টিং হাউস, টেইলারিং শপ, গাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, সামাজিক ও ক্রীড়া ক্লাবসহ বেশ কিছু খাতে ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যেখানে আগে কম হারে ভ্যাট ছিল।
❓ ভ্যাটমুক্ত (Exempted) ও শূন্য-রেটেড (Zero-rated) পণ্য কোনগুলো?
উত্তর:
শিশুদের পোশাক, কিছু খাদ্যপণ্য, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), প্যাকেটজাত তরল দুধ, বিমানের ইজারা ভাড়া এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কম্পিউটার মনিটর ভ্যাটমুক্ত বা শূন্য-রেটেড হিসেবে বিবেচিত।
❓ অনলাইন পণ্য বিক্রয়ে কি ভ্যাট বেড়েছে?
উত্তর:
হ্যাঁ। অনলাইন পণ্য বিক্রয় ও কিছু উৎপাদন স্তরে ভ্যাটের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ই-কমার্স ও ডিজিটাল ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলছে।
❓ আয়কর ও ভ্যাট কি একই জিনিস?
উত্তর:
না। আয়কর হলো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর আরোপিত প্রত্যক্ষ কর, আর ভ্যাট হলো পণ্য ও সেবার ওপর আরোপিত পরোক্ষ কর, যা সাধারণত ভোক্তা পরিশোধ করেন।
❓ কর না লাগলেও কি আয়কর রিটার্ন দিতে হয়?
উত্তর:
হ্যাঁ। অনেক ক্ষেত্রে কর না লাগলেও আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। ব্যাংক ঋণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, সরকারি চাকরি ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে রিটার্নের কপি প্রয়োজন হতে পারে।
❓ উৎসে কর বা ভ্যাট কাটা হলে কি আবার আলাদা করে দিতে হয়?
উত্তর:
না। উৎসে কর বা ভ্যাট কাটা হলে আলাদা করে একই কর দিতে হয় না, তবে রিটার্ন দাখিল করে সেই হিসাব দেখাতে হয়।
❓ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কি আলাদা কর ব্যবস্থা আছে?
উত্তর:
হ্যাঁ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য টার্নওভারভিত্তিক কর ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করলেই নিয়ম মেনে ব্যবসা চালানো যায়।
❓ ভ্যাট বা আয়কর সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর:
ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)–এর অফিস ও ওয়েবসাইট, কর অঞ্চল কার্যালয় এবং সরকারি গেজেট থেকে।
❓ ভ্যাট ভুলভাবে কাটা হলে কী করণীয়?
উত্তর:
ভ্যাট ভুলভাবে কাটা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনে কর অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা যায়।
❓ ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে কর ও ভ্যাট জানাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর:
কারণ কর ও ভ্যাটের পরিবর্তন সরাসরি দৈনন্দিন খরচ, ব্যবসার লাভ-ক্ষতি এবং আইনি দায়বদ্ধতার ওপর প্রভাব ফেলে। আগেভাগে জানলে জরিমানা ও ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব।