নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে ২০২৬

নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে চাচ্ছেন? জেনে নিন বড়দের/ বাচ্চার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্ত

বাংলাদেশে একজন নাগরিকের পরিচয়ের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো জন্ম নিবন্ধন সনদ। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আগ পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনই শিশুর বা নাগরিকের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই বয়স ১৮ বছরের নিচে থাকা সকল শিশুদের পাশাপাশি যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের এখনো জন্ম নিবন্ধন হয়নি, তাদের জন্যও জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সুনির্দিষ্ট ও নিয়মতান্ত্রিক করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পিতা ও মাতার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের সময় পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আগে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে প্রথমে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে, শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং বড়দের নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তথ্য জানা না থাকলে আবেদন বাতিল হওয়া বা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মতো ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তাই যারা নতুন করে বাচ্চা বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্ম নিবন্ধন করতে আগ্রহী, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা, আবেদন প্রক্রিয়া ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।

নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী লাগে?

নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। সাধারণভাবে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়ের ক্ষেত্রেই পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য এসব নথি চাওয়া হয়।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের সময় সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে, সেগুলো হলো—

  • শিশুর ক্ষেত্রে ইপিআই টিকা কার্ড বা জন্মসংক্রান্ত হাসপাতালের সনদ
  • পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ বা ওয়ার্ড সনদ
  • স্কুল বা মাদ্রাসায় পড়ুয়া হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র
  • আবেদনকারীর ব্যবহৃত একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর

যদি আবেদনকারীর বয়স তুলনামূলক বেশি হয় বা দীর্ঘদিন পর জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন অনলাইনে BDRIS ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করতে হয়। আবেদন করার সময় উল্লেখিত সব কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি আপলোড করা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি ডকুমেন্টের ফাইল সাইজ সাধারণত ১০০ কিলোবাইটের মধ্যে রাখতে হয়। ছবি অস্পষ্ট বা নির্ধারিত সাইজের বাইরে হলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই অনলাইনে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত ও যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী লাগে?

শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মূলত শিশুর বয়সের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়ে থাকে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসকে সাধারণত দুইটি বয়সভিত্তিক ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে রয়েছে জন্মের ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে থাকা শিশু, আর দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু। বয়সভেদে কাগজপত্রের এই পার্থক্য জানা থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং বাতিল হওয়ার ঝুঁকি কমে।

নিচে বয়স অনুযায়ী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো—


🔹 শিশুর বয়স ০–৪৫ দিন হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • শিশুর ইপিআই টিকা কার্ড
    (ইপিআই কার্ড না থাকলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা ক্লিনিকের জন্মসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র/ছাড়পত্র)
  • শিশুর পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
  • শিশুর বর্তমান ঠিকানার চলতি বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
  • আবেদনকারীর ব্যবহৃত একটি সচল মোবাইল নম্বর

🔹 শিশুর বয়স ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • শিশুর ইপিআই টিকা কার্ড
    (ইপিআই কার্ড না থাকলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রত্যয়নপত্র)
  • শিশুর বর্তমান ঠিকানার চলতি বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
  • শিশুর পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
  • শিশু যদি কিন্ডারগার্টেন বা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র
  • একটি সচল মোবাইল নম্বর

শিশুর বয়স যত কম থাকে, জন্ম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া তত সহজ হয়। তাই জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে অনলাইনে আবেদন করাই সবচেয়ে ভালো। এতে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট বা যাচাইয়ের ঝামেলা এড়ানো যায়।

বড়দের জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী লাগে?

জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধরন প্রায় একই হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স ও পরিচয় প্রমাণের জন্য অতিরিক্ত নথি যুক্ত করতে হয়। সাধারণত ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু বা যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক কাগজপত্র যাচাই করা হয়

নিচে বয়স ৫ বছরের বেশি হলে জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো—


🔹 বয়স ৫ বছরের বেশি হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • শিশু বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত হলে প্রধান শিক্ষক বা সুপারের স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র
    (প্রত্যয়নপত্রে নাম অবশ্যই বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় থাকতে হবে)
  • বয়স তুলনামূলক বেশি হলে জেএসসি, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ (যদি থাকে)
  • প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য সরকারি এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র
  • আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার চলতি বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
  • পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
  • আবেদনকারীর ব্যবহৃত একটি সচল মোবাইল নম্বর
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এর কপি
  • প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি

বয়স বেশি হলে বা তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাযথ ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে তবেই জন্ম নিবন্ধনের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ কারণে আবেদন করার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত ও যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো যায়।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী লাগে?

বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সম্পূর্ণভাবে অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়। অনলাইনে আবেদন করতে হলে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হয়, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়, সেগুলো হলো—

  • শিশুর ইপিআই টিকা কার্ড বা জন্মসংক্রান্ত হাসপাতালের সনদ
  • পিতা ও মাতার অনলাইন (ডিজিটাল) জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
  • শিক্ষার্থী হলে বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার প্রধানের প্রত্যয়নপত্র
  • আবেদন সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর

উল্লিখিত কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করা সম্ভব। আবেদন করার সময় এসব কাগজপত্রের স্পষ্ট ছবি তুলে অথবা কম্পিউটারে স্ক্যান করে নির্ধারিত ঘরে আপলোড করতে হয়। ছবি বা স্ক্যান কপি অস্পষ্ট হলে কিংবা তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকলে আবেদন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

তাই অনলাইনে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।

২০২৬ সালে জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

২০২৬ সালে নতুন জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, সেগুলো মূলত আগের নিয়মের ধারাবাহিকতায় থাকলেও যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর ও ডিজিটালভিত্তিক করা হয়েছে। নিচে জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সংক্ষেপে ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরা হলো—


১️. শিশুর ইপিআই টিকা কার্ড

শিশু জন্মের পর সরকারিভাবে বিভিন্ন টিকা দেওয়ার সময় একটি ইপিআই টিকা কার্ড প্রদান করা হয়। এই কার্ডে শিশুর নাম, জন্ম তারিখ ও টিকা গ্রহণের তথ্য উল্লেখ থাকে।

বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ইপিআই টিকা কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। জন্ম তারিখ প্রমাণের জন্য এটি অন্যতম প্রধান নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। ইপিআই কার্ড না থাকলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্মসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে।


২️. পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ

একটি শিশু জন্মগ্রহণের পর তার নাগরিক পরিচয় মূলত পিতা-মাতার পরিচয়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। সে কারণে শিশুর জন্ম নিবন্ধনের সময় পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

আগে শুধু পিতা-মাতার নাম উল্লেখ করলেই চলত, কিন্তু বর্তমানে অনলাইনে নিবন্ধিত বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে শিশুর পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই সহজ হয়।


৩️. ঠিকানার হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ

বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের জন্য নির্ধারিত হারে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করা একটি নাগরিক দায়িত্ব। এই ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ দেখিয়েই ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণ করা যায়।

শিশুর জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও পিতা-মাতার বর্তমান ঠিকানার চলতি বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ জমা দেওয়া জরুরি। এটি ঠিকানা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


৪️. শিক্ষার্থী হলে বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নপত্র

যেসব শিশু এখনো জন্ম নিবন্ধন করেনি কিন্তু ইতোমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন বা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়।

এই প্রত্যয়নপত্রে শিশুর নাম অবশ্যই বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় সঠিকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ওই নামের ভিত্তিতেই জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রস্তুত করা হয়।


৫️. একটি সচল মোবাইল নম্বর

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় একটি সচল মোবাইল নম্বর অপরিহার্য। আবেদন করার সময় মোবাইল নম্বরে ওটিপি (OTP) যাচাই করা হয়।

এছাড়া আবেদন অনুমোদিত হলে বা জন্ম নিবন্ধন তৈরি হয়ে গেলে, সেই মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনকারীকেও জানানো হয়।


৬️. অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সাধারণভাবে জন্ম নিবন্ধনের জন্য উপরোক্ত ১ থেকে ৫ নম্বর কাগজপত্রই যথেষ্ট। তবে যদি শিশুর বা আবেদনকারীর বয়স ৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে বয়স প্রমাণের জন্য অতিরিক্ত কিছু নথি চাওয়া হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উত্তম। কর্তৃপক্ষের কাছে নথিপত্র যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য মনে হলেই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়।

✍️ লেখক পরিচিতি

Md Masum Billha বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি খুলনার একটি ইউনিয়ন পরিষদে রেজিস্ট্রার–সম্পর্কিত সরকারি সেবা প্রাপ্তির নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি দৈনিক খুলনা ব্লগে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা বিষয়ক তথ্য, টিউটোরিয়াল, দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নোটিশ নিয়মিত প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *