সঞ্জীবন দাস | দাকোপ তিলডাঙ্গা প্রতিনিধি
তিলডাঙ্গা সার্বজনীন শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মায়ের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য
হিন্দুধর্মের শক্তি উপাসনার ধারায় দেবী কালী এক অনন্য ও শক্তিশালী নাম। তিনি শুধু সংহারের দেবী নন, বরং শক্তি, সময় ও প্রকৃতির চূড়ান্ত রূপের প্রতীক। বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে কালীপূজা এক গভীর ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে, যার বিশেষ প্রকাশ দেখা যায় দক্ষিণ খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে। এসব পূজার মধ্যে তিলডাঙ্গা এলাকার শ্মশান কালী পূজা একটি ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বহুদিন ধরে মানুষের শ্রদ্ধা ও ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
তিলডাঙ্গা দাকোপ এলাকায় অনুষ্ঠিত শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মায়ের পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালিত একটি আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার। এই পূজার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তন্ত্র সাধনা, লোকবিশ্বাস, সামাজিক বন্ধন এবং গভীর ধর্মীয় অনুভূতি।
দেবী কালীর পৌরাণিক উৎপত্তি ও শক্তির ধারণা
পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী কালীর আবির্ভাব অশুভ শক্তি বিনাশের প্রয়োজনে। শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের অত্যাচারে দেবলোক বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে দেবতারা আদ্যাশক্তির শরণ নেন। সেই সময় মহামায়ার শক্তি থেকেই এক ভয়ংকর কিন্তু কল্যাণময় রূপের সৃষ্টি হয়—যিনি কালী নামে পরিচিত হন।
কালো বর্ণ, প্রসারিত জিভ, হাতে খড়গ ও অসুরমুণ্ড—এই রূপ দেবীর সংহারশক্তির প্রতীক হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ গভীর। কালী মানে শুধু ধ্বংস নয়, অজ্ঞতার বিনাশ ও সত্যের প্রতিষ্ঠা।
কালীপূজা ও তন্ত্র সাধনার ঐতিহাসিক সম্পর্ক
‘কালী’ শব্দটির উৎপত্তি ‘কাল’ থেকে, যার অর্থ সময়। তন্ত্র মতে, দেবী কালী সেই সময়ের নিয়ন্ত্রক শক্তি। এই কারণেই শ্মশান, অমাবস্যা, মধ্যরাত্রি—এসবের সঙ্গে কালীপূজার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলায় তান্ত্রিক সাধনায় কালী উপাসনার প্রসার ঘটে বহু শতাব্দী আগে। ঐতিহাসিকভাবে নবদ্বীপের সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ প্রথম কালীমূর্তি পূজার প্রবর্তন করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় ও জমিদার সমাজের পৃষ্ঠপোষকতায় কালীপূজা বাংলার সর্বত্র বিস্তৃত হয়।
এই ধারারই এক জীবন্ত নিদর্শন দক্ষিণ খুলনার শ্মশান কালী পূজাগুলো।
দক্ষিণ খুলনার শ্মশান কালী পূজা: তিলডাঙ্গার দাকোপ ঐতিহ্য
দক্ষিণ খুলনার গ্রামবাংলায় কালীপূজা মানেই শুধুমাত্র উৎসব নয়, বরং এক ধরনের সাধনাচর্চা। তিলডাঙ্গা সার্বজনীন শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মায়ের পূজা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
এই পূজার ইতিহাস দীর্ঘ। প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে (২৩১ বছরের ঐতিহ্য) এই পূজা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই পূজার সূচনা হয়েছিল তান্ত্রিক সাধনা ও লোকবিশ্বাসের সমন্বয়ে। শ্মশানভূমিতে দেবীর পূজা হওয়ায় এটি সাধারণ কালীপূজার চেয়ে আলাদা মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে।
এই পূজায় দেবীকে শ্মশানকালী রূপে কল্পনা করা হয়—যিনি ভয়ংকর হলেও ভক্তের কাছে পরম আশ্রয়।
তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী পূজায় বিপুল পশুবলি: ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও বাস্তবতা
দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী দাকোপ তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী পূজাকে ঘিরে প্রতিবছর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বিপুল সংখ্যক পশুবলি। স্থানীয় সূত্র ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, এই পূজায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি, কখনো কখনো তারও বেশি পশুবলি দেওয়া হয়ে থাকে।
কেন এত বেশি পশুবলি দেওয়া হয়?
এই পশুবলির পেছনে রয়েছে বহু বছরের লোকবিশ্বাস, মানত ও তান্ত্রিক রীতি। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী—
- দেবীর কাছে মানত করলে সংকট কাটে
- দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বা পারিবারিক সমস্যার সমাধান হয়
- বিপদমুক্ত জীবন ও মানসিক শক্তি লাভ করা যায়
এই বিশ্বাস থেকেই অনেক ভক্ত ব্যক্তিগতভাবে মানত করে পশুবলি দেন।
পশুবলির ধরন ও সময়
তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী পূজায় সাধারণত—
- ছাগল
- কখনো কখনো মহিষ
পশুবলি হিসেবে দেওয়া হয়।
এই বলির আচার মূলত নির্দিষ্ট তিথি ও সময় মেনে, পূজার মূল আচার সম্পন্ন হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়।
তান্ত্রিক প্রথার প্রভাব
শ্মশান কালী পূজার সঙ্গে তন্ত্র সাধনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তন্ত্র মতে, পশুবলি হলো প্রতীকী ত্যাগ—যেখানে মানুষের ভেতরের পশুত্ব, অহংকার ও অশুভ প্রবৃত্তিকে দেবীর চরণে উৎসর্গ করার ভাবনা জড়িত। যদিও আধুনিক ব্যাখ্যায় অনেকেই একে প্রতীকী বলি হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন।
প্রশাসনিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
বর্তমান সময়ে পশুবলি একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাই—
- স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি
- স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা
এসব বিষয় মাথায় রেখেই বলি প্রথা পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।
বলির পর ভোগ বিতরণ
পশুবলির পর মাংস সাধারণত—
- প্রসাদ বা ভোগ হিসেবে
- স্থানীয় ভক্ত ও দরিদ্রদের মধ্যে
বিতরণ করা হয়। এতে সামাজিক সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির একটি দিকও যুক্ত থাকে।
সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন
যদিও পশুবলি তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী পূজার একটি পুরোনো ঐতিহ্য, তবুও সময়ের সঙ্গে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ভক্ত এখন—
- প্রতীকী বলি
- ফল, মিষ্টি বা নিরামিষ ভোগ
নিবেদন করার দিকেও ঝুঁকছেন।
সংক্ষেপে বলা যায়
দাকোপ তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী পূজায় প্রতিবছর ৪০০–৫০০ বা তারও বেশি পশুবলি দেওয়া হয়—এটি একটি ঐতিহ্যগত ও বিশ্বাসনির্ভর প্রথা। এই আচার বহু শতাব্দী ধরে চলে এলেও, বর্তমান সময়ে তা সামাজিক সংবেদনশীলতা ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই পালিত হচ্ছে।
দেবী কালীর বিভিন্ন রূপ ও শ্মশানকালীর তাৎপর্য
শাস্ত্রে দেবী কালীর বহু রূপের উল্লেখ রয়েছে—দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, চামুণ্ডা, ছিন্নমস্তা ও শ্মশানকালী অন্যতম।

শ্মশানকালী মূলত তান্ত্রিক সাধনার দেবী। তাঁর পূজায় বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে সাধনা ও ভক্তির গভীরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিলডাঙ্গার শ্মশান কালী পূজায় এই ধারাটিই আজও বজায় রয়েছে।
কালী মূর্তির প্রতীকী ব্যাখ্যা
দেবী কালীর মূর্তিতে প্রতিটি উপাদানের রয়েছে গভীর অর্থ—
- চার হাত: চার দিক ও সর্বশক্তির প্রতীক
- খড়গ: অজ্ঞানতার বিনাশ
- নরমুণ্ডের মালা: অহংকার ধ্বংস
- শিবের বুকে পদচারণা: শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও চেতনার জাগরণ
এই প্রতীকগুলো কেবল ভয়ের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আত্মজাগরণের বার্তা বহন করে।
কালীপূজার সময় ও তান্ত্রিক আচার
সাধারণত কার্তিক মাসের অমাবস্যায় দীপান্বিতা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শ্মশান কালী পূজায় নির্দিষ্ট তিথি ও আচারগত বিধান মেনে পূজা হয়। মধ্যরাত্রিতে মন্ত্রোচ্চারণ, ধ্যান ও নিবেদন এই পূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তিলডাঙ্গায় এই আচারগুলো বহুদিন ধরে ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়ে আসছে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী পূজা শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিলডাঙ্গার শ্মশান কালী পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পূজার সঙ্গে যুক্ত থেকে ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছে—যা দক্ষিণ খুলনার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
শেষ কথা
দেবী কালী শক্তির প্রতীক, আর শ্মশান কালী সেই শক্তির গভীরতর রূপ। দক্ষিণ খুলনার তিলডাঙ্গা সার্বজনীন শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মায়ের পূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—এটি ইতিহাস, বিশ্বাস ও সাধনার এক জীবন্ত ধারাবাহিকতা।
এই শতাব্দীপ্রাচীন পূজা আজও প্রমাণ করে, লোকঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চর্চা কীভাবে সময়ের স্রোত পেরিয়ে টিকে থাকে। তিলডাঙ্গার শ্মশান কালী পূজা তাই শুধু একটি স্থানের নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যের গর্ব।
❓ FAQ: কালী পূজা তিলডাঙ্গা দাকোপ খুলনা
১. তিলডাঙ্গা কালী পূজা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
তিলডাঙ্গা সার্বজনীন শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হয় তিলডাঙ্গা এলাকায়, যা খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার অন্তর্গত। এটি দক্ষিণ খুলনার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পূজাস্থল হিসেবে পরিচিত।
২. তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী পূজার ইতিহাস কত পুরোনো?
স্থানীয় ইতিহাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী মায়ের পূজার ঐতিহ্য প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি পুরোনো (প্রায় ২৩১ বছর)। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার।
৩. কেন তিলডাঙ্গার কালী পূজাকে ‘শ্মশান কালী পূজা’ বলা হয়?
এই পূজাটি শ্মশানভূমির সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেবীকে শ্মশান কালী রূপে পূজা করা হয়। তন্ত্র মতে, শ্মশান হলো সাধনার অন্যতম পবিত্র স্থান, যেখানে ভয় ও মোহ কাটিয়ে আত্মজ্ঞান লাভের প্রতীকী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
৪. তিলডাঙ্গা কালী পূজার সঙ্গে তন্ত্র সাধনার সম্পর্ক কী?
তিলডাঙ্গার কালী পূজায় তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট। এখানে দেবীকে শক্তির উগ্র রূপে কল্পনা করা হয়। মধ্যরাত্রিতে পূজা, নির্দিষ্ট মন্ত্রোচ্চারণ ও আচার পালন—এসব তান্ত্রিক প্রথার অংশ হিসেবে বহু বছর ধরে চলে আসছে।
৫. তিলডাঙ্গা কালী পূজা কোন তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়?
সাধারণত কালী পূজা কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে (দীপান্বিতা অমাবস্যা) অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিলডাঙ্গার শ্মশান কালী পূজায় নির্দিষ্ট লোকাচার ও ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুসারে পূজার সময়সূচি নির্ধারিত হয়।
৬. এই কালী পূজা কি সার্বজনীন?
হ্যাঁ, তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী মায়ের পূজা একটি সার্বজনীন পূজা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম ও দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পূজা দিতে আসেন।
৭. তিলডাঙ্গা কালী পূজার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
এই পূজার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
- শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য
- তান্ত্রিক আচার ও রীতি
- শ্মশান কালী রূপে দেবীর পূজা
- লোকবিশ্বাস ও ভক্তির গভীরতা
- আড়ম্বরের চেয়ে সাধনা ও শ্রদ্ধার গুরুত্ব
৮. তিলডাঙ্গা কালী পূজায় কী ধরনের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়?
এখানে সাধারণত শ্মশান কালী রূপের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেবীর কালো বর্ণ, প্রসারিত জিভ, হাতে খড়গ ও অসুরমুণ্ড, গলায় নরমুণ্ডের মালা—এসব প্রতীক তন্ত্র ও শক্তি সাধনার ভাবধারাকে প্রকাশ করে।
৯. তিলডাঙ্গা কালী পূজায় কি পশুবলি দেওয়া হয়?
অতীতে তান্ত্রিক পূজায় পশুবলির প্রচলন থাকলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রতীকী বলি বা নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। স্থানীয় রীতি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী পূজার আচার পালিত হয়।
১০. তিলডাঙ্গা কালী পূজার সামাজিক গুরুত্ব কী?
এই পূজাটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং—
- গ্রামবাসীর ঐক্য গড়ে তোলে
- সামাজিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির প্রতীক
- লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যম
- নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে
১১. তিলডাঙ্গা কালী পূজায় দূরদূরান্তের ভক্তরা কেন আসেন?
অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন, তিলডাঙ্গা শ্মশান কালী মায়ের কাছে মানত করলে—
- বিপদ কাটে
- মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়
- রোগ-শোক ও দুর্ভোগ লাঘব হয়
এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর অসংখ্য ভক্ত এখানে উপস্থিত হন।
১২. তিলডাঙ্গা কালী পূজার সঙ্গে দক্ষিণ খুলনার সংস্কৃতির সম্পর্ক কী?
দক্ষিণ খুলনার ধর্মীয় সংস্কৃতিতে কালী পূজার বিশেষ স্থান রয়েছে। তিলডাঙ্গার শ্মশান কালী পূজা সেই ধারার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা এই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
১৩. তিলডাঙ্গা কালী পূজা কি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত?
হ্যাঁ, ধর্মীয় শালীনতা ও স্থানীয় রীতি মেনে যে কেউ এই পূজা দর্শনে আসতে পারেন। তবে শ্মশান কালী পূজার পরিবেশ তুলনামূলক গম্ভীর ও সাধনামূলক হওয়ায় দর্শনার্থীদের আচরণে সংযম বজায় রাখা প্রত্যাশিত।
১৪. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই পূজার গুরুত্ব কী?
এই পূজা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে—
- লোকঐতিহ্য চেনায়
- ধর্মীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে
- সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখতে সহায়তা করে
১৫. তিলডাঙ্গা কালী পূজা কেন দক্ষিণ খুলনার গর্ব?
কারণ এটি—
- শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক
- তন্ত্র ও ভক্তির বিরল সংমিশ্রণ
- দক্ষিণ খুলনার ধর্মীয় ইতিহাসের জীবন্ত নিদর্শন